ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ বিকেলে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ালো টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
শেষ বিকেলে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ালো টাইগাররা
মিরপুর টেস্টে প্রথমদিনটা ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিং ধস দেখতে হয়েছে। ৫৯ রান যোগ করতে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রথম সেশনে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশনে দাপট দেখান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। শেষ বিকেলে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ফের লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টিম টাইগার্স।

প্রথমদিনে আলোকস্বল্পতায় খেলা হয়েছিল ৭৪ ওভার। দ্বিতীয় দিনে আলোকস্বল্পতার পাশাপাশি ছিল বৃষ্টির হানাও। খেলায় ব্যাঘাত ঘটেছে এদিনও। দ্বিতীয় দিলে বল গড়িয়েছে ৭২ ওভার। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম হয়েছে ১৮ ওভার। এদিন দাপট ছিল বোলারদের, দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নিয়েছেন বোলাররা। যার মধ্যে ৮ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররা।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৯৭.৪ ওভার ব্যাট করে ২৭২ রানে থেমে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান করেছে উইন্ডিজ। এখনও ১৩৮ রানে পিছিয়ে তারা। তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ রানে এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে তৃতীয় দিন শুরু করবেন।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে ২৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। হাসান মাহমুদের অফস্টাম্পের বাইরে করা গুড লেংথ ডেলিভারি হালকা ইন সুইং করেছিল। পরাস্ত হন ব্রেন্ডন কিং। তার ব্যাটের বাইরের কোনায় লেগে বল যায় জাকের আলির গ্লাভসে। ২০ বলে ১৫ রান করে ফেরেন।

দুপুর দুটার আগ থেকেই মিরপুরের আকাশে কালো মেঘ দেখা যায়। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ করে নির্ধারিত সময়ের আগে চা বিরতিতে যায় দুদল। খানিক পর সোয়া দুটার দিকে বৃষ্টি নামে মিরপুরে। লম্বাসময় খেলা বন্ধ থাকার পরে ৩টা ২০ মিনিটে আবার শুরু হয়।

খেলা গড়ানোর পরপরই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ৯০ রানে জন ক্যাম্পবেলকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার স্পিনারের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। ৭৮ বলে ৫৪ রান করেন।

৩৬তম ওভারে ৯৭ রানে জোড়া সাফল্য এনে দেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় বলে সিলি পয়েন্টে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন কাভেম হজ। ২০ বলে ৭ রান করে। পঞ্চম বলে ফেরান আমির জাঙ্গোকে। স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে জাঙ্গো ডিপ স্কয়ার লেগে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। পরে তেজনারায়ণ চন্দরপল এবং জাস্টিন গ্রিভস দিনের খেলা শেষ করেন।

বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে তাইজুল ২ উইকেট, মিরাজ ও হাসান মাহমুদ নেন একটি করে উইকেট। মানচিত্রদেখুন

বৃহস্পতিবার সকালে ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রানে ব্যাটে নেমেছিল বাংলাদেশ। সাদমান ২১৯ বলে ৯৯ রানে এবং লিটন দাস ২৮ বলে ১০ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন। দিনের দ্বিতীয় বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি লম্বা করতে পারেননি। ৭৬.৫ ওভারে জশুয়া বিশপের বলে দলীয় ২২১ রানে আউট হন। ১১ চারে ২৩৪ বলে ১০৫ রান করেন। এরপর ধস নামে।

সাদমান ফেরার পর ব্যাটে নামেন প্রথমদিনে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া তাওহীদ হৃদয়। কেবল ২ বল ক্রিজে ছিলেন। বিশপের বলে বোল্ড হন। ৪ চারে ৮৬ বলে ৪২ রান করে। নাঈম হাসানকে নিয়ে আড়াইশ পার করেন লিটন দাস। ২৬২ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে স্লিপে কাভেম হজের ক্যাচ হয়ে ফেরেন নাঈম। ১২ বলে ৫ রান করে।

এরপর ১০ রান যোগ করতে বাকি ৩ ব্যাটার আউট হলে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। হাসান ১১ বলে ৬ রান, তাইজুল ৪ বলে ১ রান এবং শরিফুল খালি হাতে ফেরেন। লিটন ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ থামে ২৭২ রান করে। মানচিত্রদেখুন

এর আগে বুধবারও বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৯ রানে ওপেনার তানজিদ তামিমের উইকেট হারায়। ২৩ বলে ৭ রান করে জেইডেন সিলসের বলে জাস্টিন গ্রিভসের ক্যাচ হন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সাদমান যোগ করেন ৫৯ রান।

দলীয় ৬৮ রানে মুমিনুল আউট হলে জুটি ভাঙে। ৫১ বলে ২৮ রান করে যান তিনি। তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান যোগ করেন ৪২ রান। ৪২ বলে ১৯ রানে শান্ত আউট হলে জুটি ভাঙে।

এরপর হৃদয় ও সাদমান বড় জুটি গড়ার পথে ছিলেন। তৃতীয় সেশনের শুরুর দিকে হৃদয় চোট পান। প্রথম দফায় ফিজিওর সহায়তা নিয়ে ব্যাটে ফিরছিলেন। কিছু সময় ফের অস্বস্তি অনুভব করেন। শেষঅবধি স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন।

সাদমানকে সঙ্গ দিতে আসেন লিটন। ৫.১ ওভার খেলার পর ফ্লাডলাইটে আগুন লাগে। বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ৫৩ মিনিট পর ফের গড়ায় মাঠের লড়াই। তবে ৪ ওভার পর দিনের খেলা শেষ হয়।


কমেন্ট বক্স